উচ্চশিক্ষার জন্য পৃথিবীজুড়ে চাহিদা রয়েছে কানাডার। আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন শিক্ষা এবং আমেরিকা ও ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে কানাডায় তুলনামূলক খরচ কম হওয়ায় বিশ্বব্যাপী শিক্ষার্থীদের পছন্দের শীর্ষ তালিকায় রয়েছে কানাডার অবস্থান। উন্নত জীবন ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের আশায় কানাডায় প্রতিবছর উচ্চশিক্ষার জন্য বহুসংখ্যক শিক্ষার্থী পাড়ি জমাচ্ছেন। শিক্ষাজীবন শেষে দেশে ফিরে তাঁরা প্রবেশ করছেন সম্ভাবনাময় পেশায়। আর কেউ বা পেশাগত জীবনে সে দেশেই থিতু হয়ে যাচ্ছেন। কানাডায় বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে ৯০টি, যার সব কটিই সরকারি। এতে করে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো শিক্ষার্থীদের গুণগত মানসম্পন্ন শিক্ষা দেয়। সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়াও কানাডায় বেশ কিছু বেসরকারি কলেজ ও ইনস্টিটিউট রয়েছে। তাই যাঁরা বিদেশে উচ্চশিক্ষার কথা ভাবছেন, তাঁরা নির্দ্বিধায় বেছে নিতে পারেন কানাডা। তবে এ জন্য নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও প্রোগ্রাম সম্পর্কে রাখতে হবে পর্যাপ্ত খোঁজখবর।

কানাডার টরন্টোতে অবস্থিত ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যোগাযোগ বিষয়ে পিএইচডি সম্পন্ন করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আবুল মনসুর আহাম্মদ। বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের পড়ালেখা ও জীবনযাত্রা সম্পর্কে জানা যাক তাঁর অভিজ্ঞতার কথা। শিক্ষাক্ষেত্রে কানাডা বরাবরই গুণগতমান ও পরিবেশ বজায় রাখে। এতে করে শিক্ষার্থীরা সহজেই তা সম্পন্ন করতে পারেন। কানাডায় লেখাপড়ার খরচ বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য কিছু বেশি বটে। এ ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীরা বৃত্তির জন্য আবেদন করতে পারেন। যাঁরা শুরুতেই বৃত্তি পান না, তাঁদের কিছুটা সমস্যা হতে পারে। তবে নিজ খরচে এসে প্রোগ্রাম শুরু হওয়ার পর একটু খোঁজখবর রাখলেই নানা ধরনের বৃত্তি পাওয়া যায়, যা দিয়ে টিউশন ফি ও থাকার খরচ হয়ে যায়।

কানাডায় যেতে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের যাওয়ার প্রায় এক বছর আগে থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে। উচ্চশিক্ষার জন্য কানাডায় যেতে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের করণীয় সম্পর্কে আবুল মনসুর আহাম্মদ বলেন, প্রথমেই শিক্ষার্থীকে নির্বাচন করতে হবে তিনি কী বিষয়ে পড়তে চান। এরপর খোঁজ নিতে হবে কোন কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে এ প্রোগ্রামটি চালু আছে, প্রোগ্রামটির খরচ, পড়ার যোগ্যতা, বৃত্তির সুযোগ, খণ্ডকালীন কাজের সুযোগ প্রভৃতি সম্পর্কে। তিনি মনে করেন, বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা সহজেই কানাডায় যেতে পারেন, তবে এর জন্য তাঁদের এ বিষয়গুলো সম্পর্কে ভালোভাবে যাচাই-বাছাই করে নিতে হবে। এই তথ্যগুলো শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নিজস্ব ওয়েবসাইট, কানাডিয়ান দূতাবাস থেকে পেতে পারেন। এ ছাড়া বিভিন্ন সময় আয়োজিত শিক্ষামেলা এ ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে।

বিশ্বায়নের জোয়ারে প্রতিযোগিতাপূর্ণ চাকরির বাজারে কানাডার মানসম্মত শিক্ষা আপনাকে সফল পেশাজীবন লাভে সাহায্য করবে। তবে শিক্ষার্থীকে শুরুতেই জানতে হবে ভর্তির নিয়মাবলি ও প্রক্রিয়া সম্পর্কে; নতুবা পরে বিপদে পড়তে হবে। চলুন জেনে নিই কানাডার উচ্চশিক্ষা সম্পর্কিত কিছু প্রাথমিক তথ্য।

ডিগ্রির ধরন ও ভর্তির সেশন
কানাডার বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে সাধারণত পাঁচ ধরনের ডিগ্রি দেওয়া হয়—ডক্টরেট ডিগ্রি, আন্ডারগ্র্যাজুয়েট, গ্র্যাজুয়েট, ডিপ্লোমা ডিগ্রি। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভর্তির সেশন নির্ভর করে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মের ওপর। তবে অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়েই সাধারণত সেপ্টেম্বর থেকে মে পর্যন্ত সেশন থাকে। এ ছাড়া জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি, এপ্রিল ও জুনেও কোনো কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে সেশন শুরু হয়।

ভর্তির জন্য প্রয়োজনীয় যোগ্যতা
আন্ডারগ্র্যাজুয়েট পর্যায়ে ভর্তির জন্য কমপক্ষে ১২ বছরের শিক্ষাগত যোগ্যতা লাগবে। গ্র্যাজুয়েট ডিগ্রির জন্য লাগবে ১৬ বছরের শিক্ষাগত যোগ্যতা। কানাডায় উচ্চশিক্ষার জন্য ইংরেজি ও ফ্রেঞ্চ—এ দুটো ভাষার প্রতিষ্ঠান রয়েছে। একজন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী এই দুটোর যেকোনো একটি ভাষা পড়তে পারবেন। ইংরেজি ভাষার প্রতিষ্ঠানগুলো ভাষাগত যোগ্যতা হিসেবে টোয়েফল, আইইএলটিএস, জিম্যাট, জিআরইকে প্রাধান্য দেয়। টোফেলের আইবিটি স্কোর থাকতে হবে ন্যূনতম ৭৫। অন্যদিকে যাঁরা আইইএলটিএস করেছেন, তাঁদের জন্য স্কোর প্রয়োজন ন্যূনতম ৬.০০। ভাষাগত যোগ্যতা ছাড়াও কিছু প্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থী ভর্তি করায়। তবে এ ক্ষেত্রে ভর্তির পর প্রতিষ্ঠানে ভাষার ওপর ESL (English Second Language) মৌলিক কোর্স করতে হবে। ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থীদের টোয়েফল, আইইএলটিএস, জিম্যাট, জিআরই না থাকলেও হবে। ফ্রেঞ্চ ভাষার প্রতিষ্ঠানে পড়তে চাইলে ওই প্রতিষ্ঠানে ফ্রেঞ্চ ভাষার ওপর লিখিত পরীক্ষা দিতে হয়। এটি তারা নিজস্ব নিয়মে নিয়ে থাকে। কানাডায় পড়ালেখার জন্য শক্ত পৃষ্ঠপোষকতা দেখাতে হয়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির জন্য শিক্ষার্থীকে তাঁর পৃষ্ঠপোষকের ন্যূনতম ২০ লাখ টাকা ব্যাংক হিসাব দেখাতে হবে এবং এই টাকা ন্যূনতম এক বছর ব্যাংকে থাকতে হবে।

টিউশন ফি ও থাকার ব্যবস্থা
কানাডার সব বিশ্ববিদ্যালয়ের টিউশন ফি একই রকম হয় না। অঞ্চল ও পড়ানোর প্রোগ্রামভেদে টিউশন ফিও ভিন্ন ভিন্ন হয়। স্থানীয় শিক্ষার্থীদের তুলনায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর টিউশন ফি বেশি হয়। আন্ডারগ্র্যাজুয়েট শিক্ষার্থীদের জন্য খরচ পড়বে ১৭ থেকে ২০ হাজার ইউএস ডলার। গ্র্যাজুয়েট, ডক্টরাল ও অ্যাসোসিয়েট ডিগ্রির জন্য খরচ পড়বে ১২ হাজার ৫০০ থেকে ২০ হাজার ইউএস ডলার।

আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের প্রথম ছয় মাস বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলে থাকতে হয়। পরে তাঁরা ইচ্ছা করলে ক্যাম্পাসের বাইরেও থাকতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করতে হবে।

খণ্ডকালীন কাজের সুযোগ
কানাডায় শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে খণ্ডকালীন কাজের সুযোগ। সপ্তাহে একজন শিক্ষার্থী ২০ ঘণ্টা কাজ করতে পারেন। শিক্ষক সহকারী, বিক্রয়কর্মী, ফুড ক্যাটারিং, গবেষণা সহকারী, কম্পিউটার ওয়ার্কসহ বিভিন্ন খণ্ডকালীন কাজ শিক্ষার্থীরা করতে পারেন।

ক্রেডিট ট্রান্সফারের সুবিধা
বাংলাদেশে থেকে কানাডার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্রেডিট ট্রান্সফারের সুবিধা রয়েছে। এ ছাড়া কানাডায় এক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আরেক বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রেডিট ট্রান্সফার করা যায়। গ্র্যাজুয়েট ও আন্ডারগ্র্যাজুয়েট পর্যায়েই মূলত ক্রেডিট ট্রান্সফার হয়। তবে ক্রেডিট ট্রান্সফার কত শতাংশ পর্যন্ত করা যাবে, তাতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো শর্তারোপ করে।

বৃত্তির খোঁজে
কানাডায় পড়তে যেতে আগ্রহীদের বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থীদের বৃত্তি দেয়। শিক্ষার্থীর একাডেমিক ফলের ওপর ভিত্তি করে বৃত্তি দেওয়া হয়ে থাকে। তবে যাঁরা শুরু থেকেই বৃত্তি নিয়ে যেতে চান, তাঁদের ক্ষেত্রে টোয়েফল, আইইএলটিএস, জিআরই, জিম্যাট প্রভৃতি স্কোর ভালো থাকতে হবে। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য কানাডা সরকার আন্তর্জাতিক স্কলারশিপ প্রোগ্রাম নামে একটি বৃত্তি দেয়। এ ছাড়া কানাডা মিলেনিয়াম স্কলারশিপ ফাউন্ডেশন, ওন্টারিও গ্র্যাজুয়েট বৃত্তি প্রোগ্রামসহ নানা ধরনের বৃত্তির প্রোগ্রাম চালু আছে। কানাডা সরকারের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ওয়েবসাইটেও আপনি বৃত্তির বিস্তারিত খোঁজখবর পাবেন।

উল্লেখযোগ্য কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ঠিকানা:

http://www.albarta.ca

http://www.utoronto.ca

http://www.yorku.ca

http://www.concondia.ca

http://www.ucan.ca

http://www.mcgill.ca

http://www.mcmaster.ca

জান্নাতুল ফেরদৌস | দৈনিক প্রথম আলো | ২৫ এপ্রিল ২০১০

Digg This
Reddit This
Stumble Now!
Buzz This
Vote on DZone
Share on Facebook
Bookmark this on Delicious
Kick It on DotNetKicks.com
Shout it
Share on LinkedIn
Bookmark this on Technorati
Post on Twitter
Google Buzz (aka. Google Reader)

{ 0 comments }

এখন ওরা ব্যস্ত। দিনরাত একাকার করে শুধুই পড়া। আর তারপর? সব ঝেড়েঝুড়ে দিয়ে আসছে পরীক্ষার হলে। তাই বলে কি ভাবা হচ্ছে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা শেষ হলেই তাদের চিন্তা শেষ। না। আসল ভাবনা তখনই শুরু। এবার কোথায় পড়ব? কী নিয়ে থাকব আরও চারটা বছর? মেডিকেলে ভর্তি হব নাকি ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ব। বিবিএ, কম্পিউটার সায়েন্স, ইংরেজি, আইন, অর্থনীতি থেকে হালের ফ্যাশন ডিজাইন পর্যন্ত সবকিছুতেই নজর এখন তাদের। এগুলো ছাড়াও রয়েছে আরও কত্ত বিষয়। নিজের পছন্দের বিষয়টাতে ভর্তি হতে পারলেই তবে স্বস্তি।

দ্বিধা না মনের আনন্দ
ছোট্ট দুটি হাতের মধ্যে চক দিয়ে কালো স্লেটের ওপর ক-খ-গ-ঘ শেখানোর জন্য বাবা-মায়ের আপ্রাণ চেষ্টা। কিছু শেখার এ আগ্রহই শৈশবের পড়াশোনার গতিকে ধাবিত করে। কিন্তু একটা সময় এসে দুনিয়ার ভেতর অহর্নিশ ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো আর টানে না। খাতায় লাল কালির দেওয়া নম্বরগুলোই এখন জীবন-মরণের প্রশ্ন। ভালো একটি চাকরির জন্য এটিই যে দরকার।

সাফায়রা আহমেদ এবার উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থী। কমার্সের এই পরীক্ষার্থী জানে তাকে ভর্তি হতে হবে বিবিএর ফাইন্যান্সে। যদিও তার মন আটকানো মানবসম্পদ বিভাগে। কিন্তু বাবা-মায়ের ইচ্ছে যে অন্য কিছুতে। ‘চাকরির ক্ষেত্রে মানবসম্পদ বিভাগের মূল্য এখন অনেক। কিন্তু বাবা-মা ঠিক ভরসা পাচ্ছেন না। তাঁদের বোঝাতে এখন পুরো চাকরির বাজারের হালহকিকতই তুলে ধরব। তবে এখন নয়। পরীক্ষার পরই শুরু করব আমার মিশন।’ চট্টগ্রামে বেড়ে ওঠা সাফায়রা জানায়।
একজন, দুজন নয়, অনেক সাফায়রা আটকে আছে এ রকম দ্বিধাদ্বন্দ্বে। পড়াশোনা করে তো প্রতিষ্ঠিত হওয়ার জন্যই। এ বিষয়টিকে অস্বীকার করার কিছু নেই। বিষয় তো অনেকগুলোই আছে। কিন্তু কোনটি পড়া উচিত? যেখানে চোখ-মুখ বুজে শুধুই নম্বর তোলা যাবে। নাকি যেটা পড়তে গিয়ে খুঁজে পাওয়া যাবে শুধুই মনের আনন্দ।

কিসের চাপে বন্দী ওরা
প্রথম শ্রেণীতে প্রথম। তাহলেই পাবে ভালো চাকরিটা। সমাজের অলিখিত নিয়ম এটা। বিষয়গুলো তাই বাছা হয় সেভাবেই। অর্থনৈতিক কারণে শিক্ষাটা বর্তমানে একপেশে হয়ে যাচ্ছে। ‘শিক্ষার্থী কী শিখল, তার চেয়ে বড় হয়ে যায় সামনে কী পাবে। শিক্ষাব্যবস্থাটাই এখন বাণিজ্যিক হয়ে গেছে।’ বলেন সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম।
এ রকম চিন্তা নিয়ে আর কয়েক দিন চললে সীমা আজাদের পড়াশোনাটা গোল্লায় যেত। পরিবারের পছন্দ অনুযায়ী ভর্তি হন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএতে। ইচ্ছার বিরুদ্ধে হওয়ায় কোনোমতেই ভালো ফলাফল করতে পারছিলেন না। শেষে পরিবারকে বোঝাতে লেগে গেলেন। অবশেষে বাবা-মায়ের অনুমতি মিলল। এখন সীমা আজাদ ফ্যাশন ডিজাইনের ছাত্রী। মনের সাধ মিটিয়ে কাপড়ের ওপর, কাপড় কেটে নকশা করে যাচ্ছেন। ‘পড়ায় মন বসত না। ক্লাসে কিছুই বুঝতাম না। একসময় বাধ্য হয়ে বদলে নিয়েছি বিষয়টি।’ জানান সীমা।

‘প্রাথমিকে অনেক ছাত্রছাত্রী ভর্তি হয়। কিন্তু তাদের ধরে রাখাই মুশকিল হয়ে যায়। সাধারণ হিসেবে দেখা যায়, ১০০ জনের মধ্যে ২৭ জন ছাত্রছাত্রী উচ্চবিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারে। পরবর্তী সময়ে চাকরির বাজারের কথা মাথায় রেখেই তারা বিষয়গুলো বেছে নেয়। কৃষিতে আমাদের এখন দরকার নতুন প্রযুক্তি, দরকার জনশক্তি। এটি একটি সম্ভাবনাময় কর্মক্ষেত্র। গণিত বিষয়টির দিকেও আমরা তেমন একটা সাড়া পাচ্ছি না। অন্যদিকে প্রথাগত চাকরিগুলোর দিকে ঝুঁকে পড়ছে মেয়েরা বেশি। এর একটি কারণ হলো পারিবারিক ও সামাজিক। আরেকটি কারণ ওরা নতুন কিছুতে ঢুকতে উৎসাহ পায় না।’ জানান রাশেদা কে চৌধুরী।
তবে সাইফুর রহমান মনের আনন্দ খুঁজে পাবেন ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়টিতেই। বুয়েটে ভর্তির উদ্দেশ্যেই তাই শুরু হবে সব চেষ্টা। ‘নতুন কিছু করার আনন্দই আমাকে উৎসাহিত করছে এ বিষয়টিতে পড়তে।’ জানান তিনি।

কী পড়ব, কী পড়ব না
একটু চিন্তা করে দেখলে সব বিষয়ই ভালো। প্রতিটি বিষয়েরই দাম আছে। কিন্তু সেটা আটকে আছে সুনির্দিষ্ট কিছু কর্মক্ষেত্রের জনপ্রিয়তায়। অনেক মেধাবী মানুষ বিখ্যাত হয়েছেন বর্তমানে অবহেলিত বিষয়গুলোর ভেতর দিয়েই। সেদিকটি তুলে ধরেন চারদিক আলোকিত করার চেষ্টায় নিমজ্জিত আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ। তিনি বলেন, ‘আনন্দের জন্য হলে, মানুষের উপকারের জন্য হবে, এমন সব বিষয়ই ভালো।’

অভিনয়শিল্পী আলী যাকের জানান, ‘গ্র্যাজুয়েশন পর্যন্ত অর্থনীতি, দর্শন, মনস্তত্ত্ব, সাহিত্য, বাংলা, ভূগোল প্রভৃতি মৌলিক বিষয় নিয়ে পড়াশোনা করা দরকার। ভালো ফলাফল করলে যেকোনো বিভাগ থেকেই ভালো চাকরিতে ঢোকা সম্ভব।’

মানবিক থেকে পাস করে সাধারণত অর্থনীতি, ইংরেজি, আইন বিভাগে ভর্তি হতে চায়। কমার্স থেকে পাস করে আইবিএ, ফাইন্যান্স, মার্কেটিংয়ে পড়তে আগ্রহী হয়। সরকারি না হলে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে সোজা ঢুকে গেলেই হলো। অপর দিকে বিজ্ঞান থেকে মেডিকেল, স্থাপত্য, প্রকৌশল, মেডিসিন, ফার্মেসি, অ্যাপ্লাইড ফিজিক্স, বায়োকেমিস্ট্রি, টেলিকমিউনিকেশন অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংসহ বিভিন্ন বিভাগে ভর্তি হওয়ার টার্গেট থাকে। সঙ্গে আছে বুয়েট। পছন্দমতো বিষয়ে ভর্তি হতে না পারলে তখন? লেদার টেক্সটাইল, ইন্টেরিয়র ডিজাইন অ্যান্ড আর্কিটেকচার, ফ্যাশন ডিজাইনসহ বিভিন্ন বিষয় খুলে দিচ্ছে নতুন সম্ভাবনা। পরমাণুবিজ্ঞানী, চার্টার্ড অ্যাকাউনটেন্স, এসিসিএ, ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি, গণমাধ্যমসহ অনেক মজার মজার বিষয় আছে।

সাধারণ বিষয়ে পড়ে শিক্ষকতা, বিসিএস পরীক্ষায় প্রতিযোগিতা, ভালো থেকে ভালো চাকরির সুযোগ—সবকিছুই অর্থহীন হয়ে পড়ে যখন তুমি সেটা আনন্দ নিয়ে করবে না। বিজ্ঞান থেকে পাস করলেই যে সে বিষয়েই থেকে যেতে হবে, তা কিন্তু নয়। মন না চাইলে অনায়াসে বদলে ফেলতে পার বিষয়টিকে। মানবিক ও কমার্সে এ সুযোগটা একটু কম হলেও আছে। একটু সাহস করে নতুনত্ব নিয়ে না হয় চিন্তাই করলাম। গতানুগতিক ধারায় গেলেই জীবনে সাফল্য আসবে—এ ধারণাটি একদমই ভুল। চাকরির জন্য নয়, কিছু শেখার জন্যই না হয় শুরু বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের পথচলা।

রয়া মুনতাসীর | দৈনিক প্রথম আলো | ২৫ এপ্রিল ২০১০

Digg This
Reddit This
Stumble Now!
Buzz This
Vote on DZone
Share on Facebook
Bookmark this on Delicious
Kick It on DotNetKicks.com
Shout it
Share on LinkedIn
Bookmark this on Technorati
Post on Twitter
Google Buzz (aka. Google Reader)

{ 0 comments }

থাইল্যান্ডে উচ্চশিক্ষা

April 25, 2010

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত থাইল্যান্ড একটি উন্নয়নশীল দেশ। দেশটি উচ্চশিক্ষার জন্য অত্যন্ত আকর্ষণীয় এবং শান্তিপ্রিয়। পড়াশোনার ভাষা ইংরেজি। টিউশন ফিসহ অন্যান্য খরচও হাতের নাগালে। স্কলারশিপ পাওয়া যায়। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঠিক থাকলে সহজেই ভিসা পাওয়া যায়। তাই যাঁরা উচ্চশিক্ষার জন্য থাইল্যান্ডে যেতে চান, তাঁদের জন্য দেওয়া হলো বিস্তারিত তথ্য।
যেসব ডিগ্রি অর্জন করা [...]

Read the full article →

আয়ারল্যান্ডে উচ্চশিক্ষা

April 25, 2010

ইউরোপের এ দেশটি বিদেশ গমনেচ্ছু শিক্ষার্থীদের পছন্দের তালিকায় শীর্ষে। বাংলাদেশ থেকে উচ্চশিক্ষার জন্য যাঁরা আয়ারল্যান্ডে যেতে ইচ্ছুক, তাঁদের জন্য দেওয়া হচ্ছে প্রয়োজনীয় তথ্যাদি।
যেসব ডিগ্রি অর্জন করা যেতে পারেঃ
ক· ব্যাচেলর ডিগ্রি,
খ· হায়ার ডিগ্রি
গ· মাস্টার ডিগ্রি এবং
ঘ· ডক্টরাল বা পিএইচডি ডিগ্রি।
সেমিস্টারসমূহঃ
১· ফল সেমিস্টারঃ আগস্ট থেকে ডিসেম্বর
২· স্প্রিং সেমিস্টারঃ জানুয়ারি থেকে মে।
কোর্সের [...]

Read the full article →

কানাডায় উচ্চশিক্ষা

April 25, 2010

উত্তর আমেরিকার দেশ কানাডা এখন বিদেশ গমনেচ্ছু শিক্ষার্থীদের প্রথম প্রছন্দ। দেশটিতে শিক্ষার এবং জীবনযাত্রার মান খুবই উন্নত। এখানে ইংরেজি এবং ফ্রেঞ্চ উভয় ভাষাতেই পড়াশোনা করা যায়। তবে যে ভাষায় পড়তে ইচ্ছুক সে ভাষায় দক্ষতা থাকতে হবে। স্কলারশিপেরও ব্যবস্থা আছে। সমস্ত কাগজপত্র সঠিক থাকলে এবং ভর্তির শর্তসমূহ যথাযথভাবে পূরণ করতে পারলে সহজেই [...]

Read the full article →

জার্মানিতে উচ্চশিক্ষা

April 25, 2010

ইউরোপ মহাদেশভুক্ত দেশ জার্মানি। এর রাজধানী বার্লিন। জার্মানিকে পৃথিবীর অন্যতম সমৃদ্ধশালী দেশ বলা হয়। শিক্ষা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিগত দিক থেকে দেশটি বিশ্বের অন্যতম। এর সরকারি নাম হলো ফেডারেল রিপাবলিক অব জার্মানি। এখানকার শিক্ষা অত্যন্ত মানসম্পন্ন। এ দেশে উচ্চ শিক্ষার অন্যতম সুবিধা হলো এখানে কোনো রকম টিউশন ফি ছাড়াই পড়া যায়।
শিক্ষাব্যবস্থাঃ
জার্মানিতে [...]

Read the full article →

নরওয়েতে উচ্চশিক্ষা

April 25, 2010

নরওয়ের দেশটির উচ্চশিক্ষার মান বেশ উঁচু। এখানকার বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে ব্যাচেলর, মাস্টার্স, ডক্টরাল বা পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করা যায়। আগস্ট থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ফল সেমিস্টারে এবং জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত স্প্রিং সেমিস্টারে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়।
যেসব বিষয়ে পড়া যায়ঃ এডুকেশন, অডিওলজি, আর্লি চাইল্ডহুড এডুকেশন, লাইব্রেরি সায়েন্স, বায়োটেকনোলজি, অকুপেশনাল থেরাপি প্রোগ্রাম, ফুড [...]

Read the full article →

ফিনল্যান্ডে উচ্চশিক্ষা

April 25, 2010

ইউরোপের যে দুটো দেশে টিউশন ফি ছাড়া পড়াশোনা করা যায় তার মধ্যে ফিনল্যান্ড অন্যতম।
যেসব ডিগ্রি অর্জন করা যেতে পারেঃ ক) ব্যাচেলর ডিগ্রি খ) মাস্টার ডিগ্রি গ) ডক্টরাল ডিগ্রি বা পিএইচডি ডিগ্রি
সেমিস্টারঃ ১· অটাম সেমিস্টারঃ আগস্ট থেকে ডিসেম্বর। ২· স্প্রিং
সেমিস্টারঃ জানুয়ারি থেকে জুলাই
ভাষাঃ ফিনল্যান্ডের বেশির ভাগ বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিনিশ ভাষায় পড়াশোনা করতে হয়। সে [...]

Read the full article →

রাশিয়াতে উচ্চশিক্ষা

April 25, 2010

পৃথিবীর বৃহত্তম দেশ রাশিয়ার পড়াশোনা আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন। রাশিয়ার অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা সেপ্টেম্বর থেকে জানুয়ারি এবং ফেব্রুয়ারি থেকে জুন-এই দুই সেমিস্টারে ভর্তি হতে পারেন। এখানকার বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে ডিপ্লোমা, ব্যাচেলর ডিগ্রি, মাস্টার ডিগ্রি ও পিএইচডি প্রোগ্রামে পড়াশোনা করা যায়। এখানে মূলত রাশিয়ান ভাষায় পড়াশোনা করানো হয়।
বিষয়ঃ অ্যাকাউন্টিং, অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিং, আর্কিটেকচার, আর্টস, [...]

Read the full article →